।। ১৯ জানুয়ারি, ২০১৯ ।।

,
কলকাতা পিপল্‌স ফিল্ম ফেস্টিভালের তৃতীয় দিনের শুরুটা মন্দ নয়। একদিকে ব্রিগেডে তৃণমূলের সভা, ব্যাপক লোকসমাগমের সম্ভাবনা এবং যানবাহনের অপ্রতুলতা, এই সব মিলিয়ে ফেস্টিভ্যালের দর্শক-সমাগম নিয়ে একটা চিন্তা ছিলই। কিন্তু দেখা গেল সিনেমা-প্রেমী মানুষজন এই প্রত্যাশিত অসুবিধাকে সরিয়ে রেখে পায়ে পায়ে ঠিক চলে এসেছেন প্রেক্ষাগৃহে। ১৯শে জানুয়ারির প্রায় স্তব্ধ রাস্তা ও জনজীবনের প্রাক্কালেও যোগেশ মাইম একাডেমিতে লোক কমেনি। সকালের দিকটা যানবাহন একেবারে না মেলায় কেউ কেউ আসতে না পারলেও দুপুর গড়াতেই বহু মানুষ ছুটে এসেছেন। তাঁরা প্রতিরোধের সিনেমায় আস্থাবান। তাঁরা এই বার্ষিক সিনেমা উৎসবের কমিটেড দর্শক। কলেজ ছাত্র সানি ভগৎ যেমন বললেন, উৎসবের এসব নানা ছবি তাঁর ভাবনার বহু অজানা, অচেনা দরজা খুলে দিচ্ছে। প্রসঙ্গত, সানি এদিন কোনো পরিবহন না পেয়ে বালিগঞ্জ থেকে কালিঘাট হেঁটে এসেছেন! আরেক দর্শক, মৌসুমী অধিকারী জানালেন, ব্রিগেডের বাজারে উত্তর কলকাতা থেকে ছুটে আসা তাঁর সার্থক শুধু প্রদর্শিত ছবিগুলোর জন্যে। সকাল ঠিক দশটায় শুরু হয়ে গেল তৃতীয় দিনের ফিল্মোৎসব।
প্রথম ছবি অনিন্দ্য শঙ্কর দাসের ‘জরা নজর উঠা কে দেখো’। এ এক অনুপম ডকুমেন্টারি। মন্তাজধর্মী স্টাইলে গড়ে তোলা ছবির কাঠামো। সমকামী- রূপান্তরকামী মানুষদের কন্ঠস্বর। তার ওপর জাক্সটাপোজ করে শহরের জানা-অজানা স্পেসগুলো অনিন্দ্য তাঁর ছবিতে ধরেছেন। পার্ক, মেলার মাঠ, পাবলিক টয়লেট, ট্যাক্সির অন্দর, বাসের গুমটি, মাঠ-ময়দান, রাতের রাস্তা – এসব নানা জায়গায় তাঁর সংবেদনশীল ক্যামেরা ঘুরে বেরিয়েছে আর আবহে চলেছে ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তের সমকামী- রূপান্তরকামী মানুষের কথোপকথন। কী অনবদ্য তিনি মিলিয়েছেন দুই সূত্রকে – একদিকে সমান্তরাল যৌনতার মানুষদের যৌনসঙ্গী খোঁজার স্পেসগুলির কথা, আরেকদিকে শহরের ওপর প্রান্তিক করে দেওয়া মানুষের অধিকারের প্রশ্ন। এই বিভিন্ন মানুষের কথা এভাবে যে ‘দেখানো’ যায় তা আগে দেখা হয়নি। প্রদর্শনীর শেষে অনিন্দ্য ৬ই সেপ্টেম্বর ২০১৮-র সুপ্রিম কোর্টের রায় সম্বন্ধে বললেন। তাঁর শুটিং করবার বিচিত্র অভিজ্ঞতা নিয়ে বললেন।
আজকের দ্বিতীয় ছবি মন পালের ‘রেইন সং’। পরিচালকের বন্ধু ও ক্লাসমেটের জীবনকে নিয়ে ব্যক্তিগত ছবি। এক মধ্যবিত্ত পরিবারের একটি ছেলের নিজের আত্মপরিচয় আবিষ্কারের গল্প। তার সমকামী সত্ত্বা, তার দূরে থাকা দিদির জন্য মন খারাপ, দিদির সাপোর্ট, চেতলা ব্রীজে তাকে ধাওয়া করা কিছু ছেলে, নিরাপত্তাহীনতা। পুরো ছবিটা জুড়ে সে একটা গান রেকর্ড করে চলে। কখনও কখনও সুর লাগে না। উঁচু তারে সে উঠতে পারে না। তার জীবনের চড়াই উৎরাইয়ের সঙ্গে মিলে যায় গানের রেকর্ডিং ও তার সহজভাবে জীবনে বেঁচে থাকার প্রতিনিয়ত চেষ্টা।
এর পরের ছবি নাচি নির্দেশিত ‘হোরা’। মারাঠি ভাষায় হোরা শব্দের অর্থ ভবিষ্যৎ-বক্তা। মারাঠি কবি বিলাস ঘোঘরে তাঁর বিপ্লবী কবিতার প্রয়োজনে পথনাটকের এক ধারা উদ্ভাবন করেন। এই রীতির প্রয়োগ করে এই ছবি রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘কবীর কলা মঞ্চ’-এর রূপালি যাদবের কাহিনি শোনায়। অসম্ভব সুন্দর ছবি। নাতিদীর্ঘ। একজন দলিত, শ্রমজীবী মহিলা হিসেবে রূপালি লিঙ্গ, জাতি এবং শ্রেণী বৈষম্যের বিভিন্ন শিকল ভেঙে চলেছেন। এই ছবি প্রদর্শনের আগে সঞ্চালক মনে করিয়ে দেন, আমাদের দেশের অসংখ্য জেলে আটক রাজনৈতিক বন্দিদের কথা। তাঁদের অপরাধ? সত্যি কথাগুলো বলা, সত্যি প্রশ্নগুলো তোলা, অন্যায় আর জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করা।
ভারতবর্ষের ছাত্র আন্দোলনের সেই স্বাধীনতা-পূর্ব যুগ থেকেই একটা পরম্পরা আছে। সময়ের সাথে এবং যুগের সাথে তাল মিলিয়ে তার গতিপ্রকৃতি অনেকটাই পালটে গেছে। তারই এক নিদর্শন ‘দ্য স্ট্রাইক অ্যান্ড আই’ তথ্যচিত্রটি। ক্ষমা পাদলকার নির্মিত এই তথ্যচিত্রটির ‘ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার’ স্ক্রিনিং হয় আজকের উৎসবে। ক্ষমা অসম্ভব নির্লিপ্ততায় এবং সমস্ত খুঁটিনাটি সমেত ক্যামেরায় বন্দি করেছেন ছাত্রছাত্রীদের এই আন্দোলনকে। পুনের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইন্সটিটিউটের মাথায় গজেন্দ্র চৌহানের নিযুক্তিকে তাঁরা মেনে নিতে পারেন নি। তাঁরা কতৃপক্ষের কাছে জানতে চেয়েছিলেন কীসের নিরিখে এই নিযুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনও সদুত্তর না পেয়ে তাঁরা এই অধিকর্তার অপসারণের জন্যে স্ট্রাইক করেন। তারপর শুরু হয় সেই একসাথে পথ চলা। দীর্ঘ জেনারেল মিটিং-এ কখনও সিদ্ধান্ত হয়, কখনও হয় না। কখনও এক সঙ্ঘবদ্ধতার সুর সবাইকে ঘিরে থাকে। কখনও ফুটে ওঠে আন্দোলনের পরিসরের ভেতরেও বিরোধী কন্ঠস্বরগুলির অস্ফুট হয়ে যাওয়া। যারা চিরদিন দূর থেকে দেখে এসেছেন সঙ্ঘবদ্ধতাকে, কখনও মিছিলে হাঁটেননি, ব্যক্তিগত পরিসরের বাইরে কখনও চিন্তা করেন নি, সেই তাঁরাই কখনও অনেক দ্বিধা কাটিয়ে গুটি গুটি পায়ে এসে মিছিলে যোগ দিয়েছেন, মঞ্চে উঠে কথা বলেছেন, আর নতুন করে চিনে নিয়েছেন নিজেদের। আবার কখনও তাঁরা বিরোধ করেছেন আন্দোলনের নেতৃত্বকে, পালটাতে বলেছেন আন্দোলনের ভাষা, খুঁজতে চেয়েছেন সংলাপের, বিতর্কের, প্রতিরোধের নতুন কোনও ভাষা। একের পর এক জটিল ভাবনা উঠে এসেছে। কী হবে আন্দোলনের ভাষা? কীভাবে সমস্ত ভিন্ন মতামতগুলি কে একত্রিত করা যায়, তার স্বকীয়তাকে বজায় রেখে? আর এসব কিছুকে অনবদ্য সংবেদনশীলতায় চিত্রায়িত করেছেন ক্ষমা। শেষে কি হল? ক্যামেরা তার অপেক্ষা করে নি।
বাণী সুব্রমনিয়নের তথ্যচিত্র ‘দ্য ডেথ অফ আস’ ছিল এর পরের ছবি। মৃত্যুদণ্ড প্রথার বিরুদ্ধে এক জোরালো আওয়াজ আনে এই ছবি। মূলতঃ অনেকগুলি ঘটনার চিত্রায়নের মধ্যে দিয়ে ছবি তার প্রতর্ককে সামনে নিয়ে আসে। ত্যাগরাজন এবং কালাপাথি, এরা ছিলেন ফাঁসির আসামি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফাঁসি রদ হয়ে যায়। এছারাও বাণী কথা বলেন এস আর গিলানির সাথে, উঠে আসে আফজল গুরুর হত্যা প্রসঙ্গ। বাণী কথা বলেন প্রবাল চৌধুরি এবং অপর্ণা সেনের সাথে, তুলে নিয়ে আসেন ধনঞ্জয় চ্যাটার্জীর ফাঁসির প্রসঙ্গ। কে প্রসাথ একজন মৎস্যজীবী, ধরা পরেন শ্রীলঙ্কায় এবং সেখানে তাঁর ফাঁসির হুকুম হয়। তাকেও ইন্টারভিয়ু করেন বাণী। ধীরে ধীরে দর্শক বুঝতে থাকেন আসলে বাণী সামনে নিয়ে আসছেন সেই অমোঘ প্রশ্নকে, যে রাষ্ট্রীয় প্রতিহিংসা কি অপরাধকে কমাতে পারে? এই উত্তর খোঁজার পথে বাণী ভিস্যুয়াল ট্র্যাকে ব্যবহার করেন সমুদ্রতটে বালি দিয়ে তৈরি করা মূর্তি, যার মধ্যে আছেন আফজল গুরু, আছেন চোখ বাঁধা ন্যায়ের দেবীও। এই ক্ষণিকের মূর্তিগুলি আসলে বাণীর সেই প্রচেষ্টা, যার আর্তি প্রকাশ পায় এলা গান্ধীর কথায়, “আজ যদি নাথুরাম গডসে বেঁচে থাকতেন, তবে তিনি কি পারতেন তার কৃতকর্মকে সমর্থন করতে, নাকি আফশোস করতেন যে তিনি সারা বিশ্বের কতবড় ক্ষতি করে গেছেন”। আর তখনই হয়ত জিতে যেত মানবতা।
এর পরের ছবি ‘অগর উয়হ দেশ বনাতি’ বা ‘ইফ শি বিল্ট আ কান্ট্রি’। মহীন মির্জা এবং রিনচিন নির্দেশিত এই তথ্যচিত্র নিয়ে বিশেষ কিছু বলার নেই, যা বলার তা সবই ওই সোজাসাপ্টা দৃশ্যায়নের মধ্য দিয়েই বলা হয়ে গেছে। ক্যামেরা কোনও রাখঢাখ না করে সরাসরি পৌঁছে গেছে তার বিষয়ে। খনিজ উত্তোলন এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য জোর করে জমি দখল এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের উচ্ছেদ, যা চলছে সারা ঝাড়খন্ড এবং ছত্তিসগড় জুড়ে তারই চিত্রায়ন এই ছবি জুড়ে। চিত্রনির্মাতারা এই দৃশ্যজাল ঘিরে আমাদের নিয়ে চলেন এমন এক প্রশ্নের সামনে যেখানে আমাদের শহরকেন্দ্রিক ব্যবস্থার ফেরি করা ‘উন্নয়ন’-এর আখ্যান সত্যিই বেবাক হয়ে যায়। এই ছবিতে কথা বলেন শ্রমজীবী নারীরা। কোনও ‘এক্সপার্ট’ ভয়েস নয়, যাঁদের জমি লুঠ হচ্ছে, সেই নারীরা সরাসরি আমাদের জানান, যে তাঁদের নামে যদি জমি থাকত তবে এই জমি কোম্পানিকে তাঁরা বেচে দিতেন না। প্রশ্ন করেন, কী হবে এই এত পরিমাণ কয়লা তুলে, যেখানে এই কয়লা চলে যাবে বিদেশে আর আমাদের জমিগুলি নষ্ট হয়ে যাবে, যাতে আমরা ফসল ফলাতে পারব না। কয়লা তো আর খাওয়া যায় না। কী হবে এই এত চওড়া রাস্তায়, যেখানে গাড়ি চলে? আমাদের তো কোনও গাড়িই নেই। এই নারী যদি এই দেশটাকে ভেঙে গড়ে তৈরি করতেন, তবে কেমন হত উন্নয়নের ভাষা? এই অমোঘ প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে শেষ হয় এই ছবি। হাততালিতে ফেটে পড়ে প্রেক্ষাগৃহ।
পরের সিনেমাটি ঋতেশ শর্মার ‘লাল মাটি’ (‘রেড সয়েল’)। আগের ছবিটির জের টেনে এটিও দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের বাস্তবতার কথা ফিকশন সিনেমাতে তুলে ধরে। মাইনিং কোম্পানির হাতে জমি ও জান চলে যায়। এই দেশের উন্নয়নের জন্য শ্রমিক কৃষক আদিবাসী মানুষের রক্তে মাটি ক্রমশ লাল হয়ে ওঠে।
এই রক্তাক্ত মাটিতে মায়েরা কেমন হতে পারেন? তাঁদের সন্তানেরা যখন নিখোঁজ হন, খুন হন, তখন তাঁদের মায়েরা কি করতে পারেন? ফাতিমা নাফিস, আর রাধিকা ভেমুলা – নাজিব আহমেদ আর রোহিত ভেমুলার এই দুই মা তাঁদের অসংখ্য সন্তানদের সাথে রাজপথ দখল করে নেন। মিছিলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দুই আম্মি, এ হয়তো এক বড় ইনকিলাবের সূচনা! সুনীল কুমারের তথ্যচিত্র ‘আম্মি’ দেখতে দেখতে বিহ্বল হয়ে যাওয়ার সাথেই কেমন এক অজানা মনোবলও ফিরে পেতে পারেন। আম্মি জানেন না তাঁর নাজিব ঘরে ফিরবেন কিনা, তবে আড়াই বছর পরও বিশ্বাসে অটল, তাঁর সন্তান ফিরবেই একদিন। এই আড়াই বছরের অপেক্ষা-যাত্রাতে ফাতিমা আম্মি আর কেবলই বদায়ুনের অন্তরালবর্তী নাজিবের মা নন; তিনি হয়ে উঠেছেন এই দেশের আম্মি।
পর্দায় এই মায়ের লড়াই শেষ হতেই মঞ্চে এলেন ফাতিমা আম্মি। ফাতিমা নাফিসের অসম্ভব ‘ভালোবাসার শক্তি’ যেন রাষ্ট্রীয় ‘হিংস্র ক্ষমতার’ বিরুদ্ধে এক অসম লড়াইয়ের অবতীর্ণ। আম্মি দৃপ্ত কণ্ঠে জানালেন তিনি সন্তানের জন্য এই দীর্ঘ অপেক্ষাতে ভয়কে কাটিয়ে প্রশ্ন করতে শিখেছেন। তিনি কেন জবাব চাইবেন না; যে স্বাধীন দেশ জুড়ে রয়েছে দলিত-আদিবাসি-মুসলমানের শোষণচিত্র। আজ যখন সেই শোষিত পরিবারের সন্তানেরা ভারতের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর শিক্ষার জন্য আসছেন তখন খুব স্বাভাবিক যে তাঁরা প্রশ্ন করবেন, তাঁদের অধিকারের জন্য সোচ্চার হবে আর তাঁদেরকে দাবিয়ে দিলে তাঁদের হয়ে তাঁদের মায়েরা আরও সোচ্চার হবেন। এই দেশে বর্তমান স্বৈরাচারী শাসকের বিরুদ্ধে দুই মা লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন, রাধিকা ও ফাতিমা; আপনি কি মায়েদের এই লড়াইয়ের মিছিলের অংশ হবেন? এদিনের কথোপকথনে আম্মি জানান লড়াইটা শুধু আর রোহিত নাজিবের জন্য নয়; বরং এই সমগ্র দেশের মায়েদের ও সন্তানদের লড়াই, যে মায়েদের কথা কোনওদিন শোনা হয়নি, যে মৃত সন্তানেরা ন্যায়বিচার পাননি – লড়াইটা তাঁদেরও হয়ে উঠছে।
আম্মি সভাগৃহে যতক্ষণ ছিলেন, তাঁর দৃপ্ত কণ্ঠ, সোচ্চার লড়াইয়ের আহ্বান ও অসম্ভব মনোবল আমাদের প্রায় সকলেরই গায়ে কাঁটা দিয়েছে। আমরা কি দেখতে পাচ্ছি সূচনা হয়েছে এক নতুন আজাদির লড়াইয়ের, যার প্রথম সারিতে ভারতের মা ফাতিমা, রাধিকা আম্মি আর এক বিশাল মিছিলে হেঁটে চলেছে সন্তানেরা – অসংখ্য ছাত্র, দলিত, মুসলমান, আদিবাসি, কৃষক, শ্রমিক, শোষিত বঞ্চিত সন্তান? স্বৈরাচারী শাসক ভয় তো পাবেই! যতই হিংস্র দমন নীতি আর রাষ্ট্র ক্ষমতা শাসকের হাতে থাকুক না কেন, প্রবল পরাক্রমশালী শাসকের অস্ত্র এই আম্মিদের নেতৃত্বের মিছিলের থেকে দুর্বল!
এদিনের শেষ সিনেমা জৈনেন্দ্র দোস্ত ও শিল্পী গুলাটি নির্দেশিত ‘নাচ ভিখারি নাচ’। বিহারের ভিখারি ঠাকুরের সহযোগী চারজন নাচ-শিল্পীকে নিয়ে মূলত এই ডকুমেন্টারি সিনেমা। আমাদের মূলস্রোতের শিল্প চর্চার বাইরে প্রান্তিক জীবনে যে আর্ট পারফর্মেন্সগুলো আমাদের চর্চার বাইরে থেকে যায় এই সিনেমাটি সেগুলির অন্তরের কথা জানায়। আমরা দেখি এই সিনেমার মধ্যে অনেকগুলো স্তর, যেখানে পরিবারের লওন্ডা নাচ করেন যিনি, এই নাচ করে অসংখ্য খ্যাতি পেয়েছেন যিনি, তিনি তাঁর পরিবারকে কোনওদিন জানতে দেননি, তিনি মহিলার ভূমিকায় নাচ করেন। একই সাথে এই তথ্যচিত্রে আমরা উঠে আসতে দেখি ভিখারি ঠাকুরের লেখনি ও নাটকের মধ্যে জেন্ডার সচেতনতা। যখন ভারতবর্ষের একাডেমিক চর্চাতেও সেভাবে নারীবাদী প্রেক্ষিত গড়ে ওঠেনি সে সময়ে বিহারের প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে ভিখারি ঠাকুরের লেখা ও ‘নাচ’-এর অভিনয়ে সেই চর্চা শুরু হতে দেখা যায়। সিনেমাটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়ে ছিল বিহারের পটভূমিতে শ্রেণী ও জাতিগত জটিলতার আখ্যান। এই ছবির শেষে জৈনেন্দ্র দোস্ত-এর সাথে দীর্ঘ আলোচনা দিয়ে শেষ হল ফিল্ম-উৎসবের তৃতীয় দিনটি।
0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *